মৈমনসিংহ গীতিকা

(0 reviews)
Estimate Shipping Time: 3 Days
উপ বিষয় : কবিতা Poetry
সংস্করণ : ৫ম মুদ্রণ, ২০২০
পৃষ্ঠা নং : 435
দেশ : Bangladesh
ভাষা : Bangla

Price
৳420 ৳480 /Pcs -13%
Quantity
(Backorder Available)
Total Price
Share

পূর্ববঙ্গ থেকে মৈমনসিংহ গীতিকার পালাগুলো সংগ্রহ করেছিলেন নেত্রকোনার চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯-১৯৪৬) আর এই সংগ্রহের কাজে পরামর্শ দিয়ে তাঁকে সহায়তা করেন দীনেশচন্দ্র সেন। ১৯১৯ সালে কলকাতায় তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। এর আগে ১৯১৩ সালে সৌরভ পত্রিকায় চন্দ্রাবতীকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন চন্দ্রকুমার দে। প্রবন্ধটি দীনেশচন্দ্র সেনের নজরে পড়ে। তখন তাঁর কাছে মনে হয়েছিল, এই কাহিনিচৈত-বৈশাখী বাগানের ফুলের গন্ধে ভরপুর ফলে নিজের আগ্রহ থেকেই তিনি চন্দ্রকুমার দের খোঁজ করতে থাকেন।

সৌরভ পত্রিকা বের হতো ময়মনসিংহ থেকে, কেদারনাথ মজুমদারের (১৮৭০-১৯২৬) সম্পাদনায়। এই কেদারনাথের সঙ্গে দীনেশচন্দ্রের আগে থেকে পরিচয় ছিল। তাঁর কাছে তিনি চন্দ্রকুমার সম্পর্কে প্রথম জানতে পারেন। চন্দ্রকুমার ছিলেন অতিদরিদ্র। নিজের চেষ্টায় বাংলা লিখতে শিখেছিলেন। সাহিত্যচর্চা করতেন। তবে দীনেশচন্দ্রকে হতাশ হতে হয়, যখন জানতে পারেন, চন্দ্রকুমার মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন।

এরপরও হাল ছাড়েননি দীনেশচন্দ্র। বছর দুয়েক পর হঠাৎ একদিন কেদারবাবুর চিঠি আসে দীনেশচন্দ্রের কাছে। চিঠিতে তিনি জানান, চন্দ্রকুমার দে অনেকটা সুস্থ হয়েছেন। তিনি খুব তাড়াতাড়ি কলকাতায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। একই সঙ্গে তাঁর চিকিৎসাও যে দরকার, এটাও তিনি উল্লেখ করেন।

চন্দ্রকুমারের স্ত্রীর দু-একটা রুপার অলংকার ছিল। সেগুলো বিক্রি করে ১৯১৯ সালে কলকাতায় যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখা করেন দীনেশচন্দ্র সেনের সঙ্গে। মৈমনসিংহ গীতিকার ভূমিকায় দীনেশচন্দ্র সেন লিখেছেন, ‘রোগে-দুঃখে জীর্ণ, মুখ পাণ্ডুরবর্ণ, অর্ধাশনে-অনশনে বিশীর্ণত্রিশ বছর বয়সের অল্পভাষী এই যুবক ময়মনসিংহ অঞ্চলের অনাবিষ্কৃত পল্লিগাথার সন্ধান দিলেন।

ওই সময়ে চন্দ্রকুমার কবিরাজ যামিনীভূষণ রায়ের কাছ থেকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা পান। আর থাকতে পেরেছিলেন বিত্তবান গোপালদাস চৌধুরীর বাড়িতে। কিছুদিন কলকাতায় কাটিয়ে ময়মনসিংহে ফিরে আসেন। পরে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আনুকূল্যে ময়মনসিংহ অঞ্চলের গাথা সংগ্রহ করার কাজে নিযুক্ত হন।
 
এসব গাথার অধিকাংশই চাষাদের রচনা। এগুলো আগে কখনো লিপিবদ্ধ হয়নি। সেসব গান কৃষকেরা তন্ময় হয়ে শুনত। কিন্তু মানুষের রুচি বদলানোর কারণে এই গানের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমতে শুরু করে আঠারো শতকের শেষ থেকেই। ফলে এগুলো গাওয়ার লোকেরও দেখা পাওয়া যেত না সহজে। একেকটি পালাগান সংগ্রহ করতে চন্দ্রকুমারকে তাই বহু লোকের কাছে ধরনা দিতে হয়েছে। গ্রামে গ্রামে ঘুরে নানা লোকের কাছে গিয়ে তবেই সম্পূর্ণ পালা উদ্ধার করতে পেরেছেন।

সংগ্রহের পরে পালাগুলোর কোনো কোনো জায়গায় অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। দীনেশচন্দ্র সেগুলো সম্পাদনা করে ঠিক করেন। গাথাগুলোর টীকা-টিপ্পনী ভূমিকাও তিনি লেখেন। ছাড়া প্রতিটি পালা ঘটনা-অনুযায়ী কয়েকটি ভাগ করেন। পালায় ব্যবহৃত আঞ্চলিক শব্দগুলোর অর্থ লিখে দেন কিশোরগঞ্জের সুরেশচন্দ্র ধর।

 

Reviews & Ratings

0 out of 5.0
(0 reviews)
There have been no reviews for this product yet.

Frequently Bought Products

Product Queries (0)

Login Or Registerto submit your questions to seller

Other Questions

No none asked to seller yet

All categories
Flash Sale
Todays Deal